আহারে জীবন ৯ বছর প্রবাসে কষ্টের উপার্জন, দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ

আহারে জীবন ৯ বছর প্রবাসে কষ্টের উপার্জন, দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ আর ভাঙা সংসারের বেদনা—শেষ পর্যন্ত সহ্য করতে পারলেন না আনোয়ার!**

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়দের দাবি, কুয়েতে দীর্ঘ ৯ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে পরিবারের সুখের আশায় নিরলস পরিশ্রম করেছিলেন আনোয়ার হোসেন। মাসের পর মাস কষ্ট করে উপার্জিত টাকা দেশে পাঠিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই টাকায় একের পর এক জমি কেনা হলেও অধিকাংশ জমি স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। প্রবাসে থাকা আনোয়ার বিশ্বাস করে সব দায়িত্ব স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান, তার সাজানো সংসার আর আগের মতো নেই।

অভিযোগ রয়েছে, দুই সন্তানের জননী আকলিমা আক্তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে দূর সম্পর্কের এক ভাগ্নের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে বড় সন্তানকে আনোয়ারের বড় ভাইয়ের কাছে রেখে ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ওই যুবকের সঙ্গে চলে যান। পরবর্তীতে ভাগ্নের সংসারেও তিনি আরও একটি সন্তানের জন্ম দেন।

সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী বিষয় হলো, দেশে ফিরে আনোয়ার হোসেন নাকি অতীতের সবকিছু ভুলে আবার সংসার শুরু করতে চেয়েছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, নিজের দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি স্ত্রীর নতুন সংসারে জন্ম নেওয়া শি/শুটিকেও নিজের সন্তানের মতো গ্রহণ করে নতুন করে ঘর বাঁধার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

কিন্তু তার সেই চেষ্টার কোনো ফল হয়নি। বরং কিছুদিন পর তার কাছে তালাকের নোটিশ পৌঁছে যায়। স্বজনদের মতে, এই ঘটনা তাকে মানসিকভাবে চরমভাবে ভেঙে দেয়। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত উপার্জন, ভেঙে যাওয়া সংসার, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং সামাজিক অপমান—সব মিলিয়ে তিনি গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েন।

এরপর একদিন নিজ বাড়ি থেকেই তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

তবে এসব তথ্যের অনেকগুলোই পরিবারের অভিযোগ ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রচারিত হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য এবং সব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।