স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্ক ইসলামসম্মত সীমার মধ্যে অত্যন্ত পবিত্র ও বৈধ। তবে কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে অনেকের মনে দ্বিধা ও প্রশ্ন তৈরি হয়। এর মধ্যে একটি আলোচিত প্রশ্ন হলো— স্বামী কি স্ত্রীর বুকের দুধ পান করতে পারবে? ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে?
ইসলামের মূল নীতি
ইসলামে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা হালাল, তবে সব কিছুই শরিয়তের সীমার মধ্যে হতে হবে। কুরআন ও হাদিসে সরাসরি এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও, ফিকহবিদরা কুরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও দলিলের আলোকে এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন।
অধিকাংশ আলেমের মতামত
অধিকাংশ ইসলামি ফকিহ (বিশেষজ্ঞ আলেম) বলেন—
স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা হারাম নয়, অর্থাৎ তা করলে গুনাহ হবে না
তবে এটি অপছন্দনীয় (মাকরূহ)
কারণ স্ত্রীর দুধ মূলত শিশুর খাদ্য হিসেবে নির্ধারিত
দুধ পান করলে কি সম্পর্ক হারাম হয়ে যায়?
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—
স্বামী যদি স্ত্রীর বুকের দুধ পান করে, তাহলে কি তাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হারাম হয়ে যাবে?
➡️ উত্তর: না, হারাম হবে না।
কারণ:
দুধপানজনিত সম্পর্ক (রাদাআত) তখনই成立 হয়, যখন
শিশুকালীন বয়সে
নির্দিষ্ট পরিমাণ দুধ
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পান করা হয়
প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়
ইমামদের ব্যাখ্যা
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অন্যান্য অনেক আলেমের মতে,
প্রাপ্তবয়স্ক কেউ দুধ পান করলে তা দুধসম্পর্ক সৃষ্টি করে না
তাই স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ থাকে
উত্তম কী?
যদিও এটি হারাম নয়, তবে আলেমরা বলেন—
এ ধরনের কাজ এড়িয়ে চলাই উত্তম
কারণ এতে স্বাভাবিক রুচি ও শালীনতার ব্যত্যয় ঘটে
এবং দাম্পত্য সম্পর্কের সৌন্দর্য রক্ষা করা ইসলামের উদ্দেশ্য
সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত
✅ হারাম নয়
⚠️ অপছন্দনীয় (মাকরূহ)
❌ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হারাম হয় না
✅ শিশুকাল ছাড়া দুধসম্পর্ক হয় না
উপসংহার
ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবধর্মী জীবনব্যবস্থা। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে হালাল ও পবিত্র রাখাই ইসলামের মূল লক্ষ্য। তাই শরিয়তের সীমা, শালীনতা ও সুস্থ রুচি বজায় রেখে দাম্পত্য জীবন পরিচালনা করাই একজন মুমিনের জন্য উত্তম।
Barta Zone 24 – Most Popular Bangla News The Fastest Growing Bangla News Portal Titled Barta Zone 24 Offers To Know Latest National And Local Stories.