প্রথম রাতেই সে এতবার করবে আমি বিশ্বাস করতে পারছি না

ফিতের খেই হারিয়ে ফেলেছি—এক অংশ বাইরে, আরেকটা ভেতরে ঢুকে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে পাজামা আঁকড়ে আলনার দিকে গেলাম। সেখান থেকে একটা নতুন লুঙ্গি নিলাম, কিন্তু পড়তে গিয়ে দেখি সেলাইই করা হয়নি! বুঝলাম, সবকিছু নতুন করে সাজাতে গিয়ে মা পুরনো কিছুই রাখেননি। এই মুহূর্তে একটা পুরনো লুঙ্গি পেলেও হয়তো বাঁচতাম! শেষমেশ শেরওয়ানির নিচে কোনোভাবে সেটাই জড়িয়ে নিলাম।

ওদিকে মা আর নতুন বউ জেসমিনের হাসি থামছেই না। মনে হচ্ছে যেন কোনো মজার নাটক দেখছে! হাসির শব্দে বাড়ির অন্যরাও জড়ো হতে শুরু করল। মা বিষয়টা বুঝে জেসমিনকে বললেন, “দরজা বন্ধ করে সামলাও তোমার স্বামীকে।” বলে তিনি চলে গেলেন।
জেসমিন দরজা বন্ধ করে আমার দিকে এগিয়ে এল। আমি একটু অস্বস্তিতে দাঁড়িয়ে আছি। সে কাছে আসতেই আমি বললাম, “না, থাক…” কিন্তু সে থামল না। বরং দৃঢ় স্বরে বলল, “মোবাইলটা দিন।” একটু অবাক হলেও দিয়ে দিলাম। তারপর আমার হাত ধরে বিছানায় বসাল।

বিছানায় পাশাপাশি বসে আছি, কিন্তু সে তখনো মোবাইলেই ব্যস্ত। কিছুক্ষণ পর একটা মেসেজ দেখিয়ে বলল, “এটা কী?” মেসেজে লেখা—“ভাই, চলে আসেন। কোনো সমস্যা নেই।”

আমি হেসে বললাম, “এটা অফিসের ব্যাপার। একদিন দেরি হয়েছিল, তাই সহকর্মীকে বলেছিলাম সুযোগ বুঝে জানাতে। সে তখনই এই মেসেজ পাঠিয়েছিল।”
জেসমিন কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ধীরে ধীরে তার মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠল—মনে হলো, ভুল বোঝাবুঝিটা কাটতে শুরু করেছে।