৭০০ জন আমাকে ধ’র্ষ’ণ করেছে, আর তাদের মধ্যে আমার কয়েকজন আত্মীয়ও ছিল,তবুও আমি..

একটা সময় ছিল, যখন আমি বিশ্বাস করতাম পৃথিবীতে ভালো মানুষ বেশি। আমি বিশ্বাস করতাম পরিবার মানেই নিরাপত্তা, আত্মীয় মানেই ভরসা, আর মানুষ মানেই মানবতা। কিন্তু আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অধ্যায় আমাকে শিখিয়েছে, কখনো কখনো সবচেয়ে বড় বিপদ আসে সবচেয়ে কাছের মানুষদের কাছ থেকেই।

যেদিন আমার ওপর এই নৃশংসতা ঘটেছিল, সেদিন শুধু আমার শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়নি, ভেঙে গিয়েছিল আমার আত্মবিশ্বাস, আমার স্বপ্ন, আমার বেঁচে থাকার ইচ্ছা। আমি চিৎকার করেছি, কেঁদেছি, সাহায্য চেয়েছি। কিন্তু অনেকেই দেখেও না দেখার ভান করেছে। যারা আমাকে রক্ষা করার কথা ছিল, তাদের মধ্যেও কয়েকজন ছিল আমার নির্যাতনের অংশ।

অনেক রাত আমি ঘুমাতে পারিনি। অসংখ্যবার মনে হয়েছে সবকিছু শেষ করে দিই। সমাজের প্রশ্ন, মানুষের কটূক্তি, আর নিজের ভেতরের যন্ত্রণা আমাকে প্রতিনিয়ত ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু তারপরও আমি হার মানিনি। কারণ আমি বুঝতে পেরেছি, আমার নীরবতা অপরাধীদের আরও শক্তিশালী করবে।

আজ আমি বেঁচে আছি। মাথা উঁচু করে বেঁচে আছি। কারণ আমি অপরাধী নই, অপরাধ করেছে তারা। লজ্জা আমার নয়, লজ্জা তাদের। যারা একজন মানুষের জীবন ধ্বংস করে নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে চায়, তারাই সমাজের আসল কলঙ্ক।

এই লেখা পড়ে যদি একজন মানুষও সচেতন হয়, যদি একজন অভিভাবকও তার সন্তানকে আরও নিরাপদ রাখার চেষ্টা করে, যদি একজন ভুক্তভোগীও সাহস পায় মুখ খুলতে, তাহলে আমার কষ্টের গল্প বলা সার্থক হবে।

যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলুন। ভুক্তভোগীকে দোষারোপ নয়, তার পাশে দাঁড়ান। কারণ আজ সে, কাল হয়তো আপনার পরিচিত কেউ।

নীরবতা নয়, প্রতিবাদই পারে পরিবর্তন আনতে।