দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা শোয়ার পর হঠাৎ হাত-পায়ে ঝিনঝিন অনুভূতি হওয়া খুব সাধারণ একটি ব্যাপার। অনেকেই একে সামান্য ক্লান্তি বা ভুল ভঙ্গিতে বসার ফল ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এই চেনা সমস্যাটি যদি আপনার নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়? মনে রাখবেন, শরীরের প্রতিটি ছোটখাটো সমস্যাই কোনো না কোনো অভ্যন্তরীণ গোলযোগের বার্তা দেয়।
বারবার হাত-পা ঝিনঝিন করা বা অসাড় হয়ে যাওয়া হতে পারে নীরব ঘাতকের মতো কাজ করা একটি বিশেষ ভিটামিনের অভাবের সংকেত, যা ধীরে ধীরে আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কী সেই ভিটামিন, আর কেনই বা এমন হয়? চলুন, জেনে নিই।
মানুষ প্রায়ই নিজের শরীরকে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করে। উঁচু পাহাড়ে চড়া, গভীর সমুদ্রে সাঁতার কাটা বা কঠোর খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার মতো অসাধ্য সাধন করতে পারে এই মানবদেহ। কিন্তু যেকোনো যন্ত্রের মতোই আমাদের শরীরও একসময় ক্লান্ত ও জীর্ণ হতে পারে। তাই এর সঠিক যত্ন প্রয়োজন। ক্ষমতার অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে শরীর বিকল হতে পারে বা গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
আজকাল অনেকেই হাত ও পায়ে ঝিনঝিন করা, অসাড়তা এবং জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন। এটি মূলত শরীর থেকে পাঠানো এমন এক সংকেত, যা জানান দেয় তার সাহায্য প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, এটিকে নিছক ক্লান্তি বা দৈনন্দিন সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করা মোটেও ঠিক নয়। এটি মূলত ভিটামিন বি১২-এর অভাবের লক্ষণ হতে পারে, যা স্নায়ুর অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে।
অনেকেই ভুল ভঙ্গিতে বসার কারণে ঝিনঝিন অনুভূতি হওয়াকে পাত্তা দেন না। কিন্তু এই সমস্যা যদি বারবার দেখা দেয়, তবে বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নেওয়া উচিত। ভারতীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সতীশ খাদিলকরের মতে, এটি এমন একটি লক্ষণ, যা বলে দিচ্ছে আপনার স্নায়ুর অতিরিক্ত যত্ন প্রয়োজন।
স্নায়ুর সুস্থতার জন্য সঠিক পুষ্টি অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে ভিটামিন বি১২-এর সক্রিয় উপাদান মিথাইলকোবালামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি স্নায়ুকে আবৃত করে রাখা ‘মায়োলিন শিথ’ বা সুরক্ষামূলক স্তরকে ভালো রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে স্নায়ুর সংকেত সঠিক উপায়ে সঞ্চালিত হতে পারে। শুধু সাধারণ খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এই স্তরটি সম্পূর্ণরূপে মেরামত করা সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
যারা দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করেন বা তীব্র শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করেন, তাদের এই সমস্যাগুলো হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এটি শারীরিক ও মানসিকভাবে যেমন চাপ সৃষ্টি করে, তেমনি দৈনন্দিন কাজকর্মেও ব্যাঘাত ঘটায়। এমন পরিস্থিতিতে মূল কারণ খুঁজে বের করে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে উপসর্গগুলো উপশম করা জরুরি।
শরীরের স্নায়ুগুলোকে শক্তিশালী করতে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ট্যাবলেট সহায়তা করে। ভিটামিন বি৬, বি৩, বি১, বি২ ও বি৫-এর মতো ভিটামিনগুলো বি১২-এর সঙ্গে মিলে হাত-পায়ের ঝিনঝিন করা, অসাড়তা ও দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া হাত ও পায়ের ব্যথা বা জ্বালাপোড়া উপশমে বিশেষ ধরনের ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্যাপসাইসিন, মেন্থল, ইউক্যালিপটাস ও কর্পূরের মতো উপাদানসমৃদ্ধ এসব ক্রিম সরাসরি আক্রান্ত স্থানে কাজ করে এবং দ্রুত আরাম দেয়।
আমাদের শরীর ক্রমাগত ছোট ছোট সংকেতের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে কথা বলে। সময়মতো এসব সংকেত আমলে নিলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। সঠিক পুষ্টি ও উপসর্গের যথাযথ চিকিৎসা স্নায়ুকে শক্তিশালী করে এবং একটি সক্রিয় ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন নিশ্চিত করে। তাই ঝিনঝিন করা বা অসাড়তার মতো সমস্যা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Barta Zone 24 – Most Popular Bangla News The Fastest Growing Bangla News Portal Titled Barta Zone 24 Offers To Know Latest National And Local Stories.