ব্যাংকে টাকা রেখে মাসিক মুনাফা দিয়ে সংসার চালানো কি জায়েজ? ইসলাম যা বলছে…

হ্যাঁ—এখানে “মাসিক মুনাফা” বলতে কী বোঝাচ্ছেন, সেটিই মূল বিষয়। ইসলামি দৃষ্টিতে ব্যাংকে টাকা রেখে মাসে মাসে নির্দিষ্ট/গ্যারান্টিযুক্ত টাকা নেওয়া হলে সাধারণত তা মুনাফা নয়, সুদ (রিবা) হিসেবে গণ্য হয়।

১. প্রচলিত ব্যাংকে টাকা রেখে নির্দিষ্ট মাসিক রিটার্ন নেওয়া
যেমন আপনি ১০ লাখ টাকা জমা রাখলেন, ব্যাংক চুক্তি করল—প্রতি মাসে ৮/৯/১০ হাজার টাকা দেবে, অথবা বছরে নির্দিষ্ট ৮%/১০% দেবে।

এ ধরনের মূলধনের ওপর পূর্বনির্ধারিত ও নিশ্চিত অতিরিক্ত অর্থ শরিয়াহসম্মত নয়। আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমিও ব্যাংকের সুদকে রিবা হিসেবে নিষিদ্ধ বলেছে এবং মুদারাবা/অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে আগে থেকেই নির্দিষ্ট অঙ্কের রিটার্ন নিশ্চিত করাকে শরিয়াহসম্মত মনে করে না।
م
مجمع الفقه الإسلامي الدولي
+1

অর্থাৎ, সেই টাকা দিয়ে সংসার চালালেও হুকুম পরিবর্তন হবে না। প্রয়োজন থাকা হারাম সুদকে হালাল করে দেয় না।
I
Islam-QA

২. তাহলে “ইসলামি ব্যাংকের মুনাফা” কি একই?
একেবারে একই নয়—যদি ব্যাংক সত্যিকার অর্থে শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ করে এবং চুক্তিটি মুদারাবা/বৈধ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে হয়।

এ ক্ষেত্রে পার্থক্য হলো:

লাভ আগে থেকেই নির্দিষ্ট টাকা হিসেবে গ্যারান্টি করা হবে না।
প্রকৃত ব্যবসা/বিনিয়োগ থেকে অর্জিত লাভের একটি অনুপাত আমানতকারী পেতে পারেন।
ব্যবসার প্রকৃতি শরিয়াহসম্মত হতে হবে।
শুধু ব্যাংক “ইসলামি” নাম ব্যবহার করলেই যথেষ্ট নয়; প্রকৃত চুক্তি ও কার্যক্রম দেখতে হবে।
I
Islam-QA
+1
উদাহরণ: “আপনার ১০ লাখ টাকায় প্রতি মাসে নিশ্চিত ১০,০০০ টাকা”—এটি সুদের বৈশিষ্ট্য বহন করে। পক্ষান্তরে “বিনিয়োগের প্রকৃত লাভের ৬০% আমানতকারীদের, ৪০% ব্যাংকের”—এটি ভিন্ন ধরনের চুক্তি।

৩. শুধু সংসার চালানোর জন্য হলে?
সংসারের খরচ চালানোর জন্য সুদের ওপর নির্ভর করা জায়েজ হয়ে যায় না। বরং হালাল আয়ের ব্যবস্থা খোঁজা জরুরি।

যদি কারও ইতিমধ্যে সুদের অ্যাকাউন্ট থাকে, তাহলে আলেমদের ফতোয়া অনুযায়ী সুদকে নিজের ভোগে ব্যবহার না করে তা থেকে মুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে; ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করার পরিবর্তে দরিদ্র/জনকল্যাণমূলক খাতে দিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
I
Islam-QA
+1

সুতরাং সংক্ষেপে:
প্রচলিত ব্যাংকে টাকা রেখে নির্দিষ্ট মাসিক সুদ নিয়ে সংসার চালানো—জায়েজ নয়।
শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগে প্রকৃত লাভের অংশ নিয়ে সংসার চালানো—জায়েজ হতে পারে, তবে নির্দিষ্ট ব্যাংক ও তার চুক্তি দেখে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।

আপনি চাইলে বাংলাদেশের কোন কোন ব্যাংকের “মাসিক মুনাফা” স্কিম শরিয়াহসম্মত এবং কোনগুলো আসলে সুদের কাছাকাছি—বর্তমান ২০২৬ সালের তথ্য দেখে আমি বিস্তারিত তুলনা করে দিতে পারি।